“চীন চায় না বিশ্বে শৃঙ্খলা ফিরে আসুক বরং তারা পুরো বিশ্বের দখল নিতে চায়”

0
11

চীন চায় না বিশ্বে শৃঙ্খলা ফিরে আসুক বরং তারা পুরো বিশ্বের দখল নিতে চায়।
চীন তার সুনাম বাঁচাতে বড় ধরনের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। হংকং-এর উপর চীনের নিয়ন্ত্রণ টিকিয়ে রাখতে তাদের নেওয়া পদক্ষেপের জন্য দেশটি ক্রোধের আগুনে জ্বলছে। চীন দুটি উপায় অবলম্বন করেছে। প্রথমত চীনের গল্প প্রচার করে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাদের সাফল্যের উপর জোর দেওয়া এবং তাদের ভুলগুলোকে সঠিক বলে ব্যাখ্যা করা। দ্বিতীয়ত, যারা দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চায় তাদের আক্রমণ করা।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাঁর প্রভাব টিকিয়ে রাখতে এই লড়াইয়ে নেমেছে। যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র অচল এবং পুরো বিশ্ব একটি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তাই তারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা)WHO) এবং জাতিসংঘের মত আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো কে হাতে রাখার জন্য বড় বড় প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে ।
পরিকল্পনাটির একটি যথাযথ শিরোনাম দেওয়া হয় “Community with a shared Future for Mankind“। আলোচনার গুরুত্ব, ঐক্যমত, সহযোগিতা এবং অংশীদারি সুবিধা নিয়ে ২০১৩ সালে প্রেসিডেন্ট শি প্রথমে একটি প্রস্তাব দেয় এবং দুই বছর পরে জাতিসঙ্ঘে সেটি প্রস্তাবিত হয়।যদিও সেই প্রস্তাব খুব ছোট আকারে দেওয়া হয় যা অস্পষ্ট ছিল।
চীন সবসময় বলে আসছে যে তারা বিশ্বব্যাপী শৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায় না। যদি তারা সব ঠিক করতেই পারবে তাহলে কেন চীন বৈশ্বিক শৃঙ্খলা নষ্ট হওয়ায় ঝামেলার মুখোমুখি হচ্ছে?
সর্বোপরি, চিন বিশ্বায়নের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী । তারা পরিকল্পিত ভাবে পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন বহুমুখী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করেছে, যেমন World Trade Organization এর স্বার্থ ও প্রভাবকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে । যদিও এখনো বিশ্ব ব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের নিয়ন্ত্রণের জন্য তারা লড়াই চালাচ্ছে, তবে এই সংস্থাগুলি জাতিসংঘের চারটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা যা আন্তর্জাতিক নিয়ম ও মান নির্ধারণ করে । তবে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে চীন এখন জাতিসংঘের দ্বিতীয় বৃহত্তম আর্থিক অনুদানকারী। তারা বহু বছর ধরে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে ক্রমাগতভাবে তাদের প্রভাব বাড়িয়ে চলেছে।
চিনের বর্তমান পরিকল্পনা হল তাদের আশেপাশের অঞ্চলগুলোতে প্রভাব বিস্তার করা। বিশ্বের কাছে তাদের বার্তা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ায় এই সুযোগ তুলে নিতে প্রস্তুত চীন । মহামারির দ্বারা বিশ্ব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এটি একটি আকর্ষণীয় প্রস্তাব বলে মনে হতে পারে। তবে উন্নয়ন ও স্থিতিশিলতা রক্ষা করা চীনের উদ্দেশ্য নয় বরং অন্য দেশের উপর প্রভাব বিস্তার করাই তাদের লক্ষ্য।
মহামারীতে চীন ব্যবস্থাপনার সমস্যাগুলো প্রকাশ পেলেও এটি পশ্চিমের অনেক ঘাটতিও প্রকাশ করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপ, প্রত্যেকে তাদের রাজনৈতিক সমস্যা এবং সামাজিক চ্যালেঞ্জের চাপের মুখে ভাইরাসের সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করছে যার জন্য তারা একেবারেই প্রস্তুত ছিলনা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে তারা বিশ্বব্যাপী যে সংস্থাগুলি তৈরি করেছিল তারাও এখন দিশেহারা।
মহামারীটির শুরুতে চীন হোঁচট খেয়েছে, এটা সত্য। কিন্তু পশ্চিমারা তাদের নৈতিক উচ্চ স্থল হারিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র তার পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার সময় তাদের ঘরোয়া সমস্যার নিয়ে বিভাজনমূলক প্রচার চালানো হবে এবং তা নিশ্চিত হলেই চীন বিশ্বের আস্থা ফিরে পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। এরপর ধীরে ধীরে তারা তাদের সুবিধা আদায় করবে।
এ জাতীয় প্রত্যাশায় আশাবাদী থাকা কঠিন। বিশ্বের এখন ভারসাম্য দরকার – এই মুহুর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া অন্য কোনও দেশের এটি নিশ্চিত করার ক্ষমতা নেই। এখন সত্যিকার অর্থে তাদের নেতৃত্ব দরকার।
বিশ্বের আমেরিকান নেতৃত্বের প্রয়োজন এটা মনে করিয়ে দিতে যে, স্বাধীনতার প্রতি সম্মান এবং মানবিক মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধা মানুষের একটি ভবিষ্যতের সর্বোত্তম পথ প্রদান করে । বেইজিং মডেল, যেখানে একটি স্বৈরাচারী দল অথবা রাষ্ট্র একক ভাবে মুক্ত রাজনৈতিক পছন্দের উপর অর্থনৈতিক উন্নতিসাধনের কথা বলে, তা কারও কারও কাছে আকর্ষণীয় মনে হতে পারে। চীন তাদের সংস্কৃতি এবং ইতিহাসের উপর নির্ভরশীল, তাই এই পদ্ধতিটি কেবল সেখানেই কাজ করতে পারে। অন্যদিকে গণতন্ত্র সর্বজনীন নীতিগুলির উপর ভিত্তি করে দারিয়ে থাকে যা প্রত্যেকেই অনুসরণ করতে পারে। একটি বিখ্যাত চাইনিজ প্রবাদ প্রচলিত আছে, “যতই বাতাস আর ঢেউ থাকুক না কেন, মাছ ধরার নৌকায় শক্ত হয়ে বসে থাকো”। চীন শুধু আমাদের আশ্বাস দেয় যে তারা ঝড়টি কাটিয়ে উঠতে পারবে। আর পশ্চিমারা যদি গণতন্ত্রের শক্তিতে তাদের অবস্থান পুনরুদ্ধার করতে না পারে তাহলে ভারত থেকে ইন্দোনেশিয়া, ঘানা থেকে উরুগুয়ে — চিন তখন পুরো বিশ্বকে দখল করে নিতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here